Monday, September 18, 2017

মিয়ানমারের গনহত্যা, বৌদ্ধরা এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়াবে না।

বাংলাদেশে বৌদ্ধদের শীর্ষ সংগঠন সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ জানিয়েছে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিবাদে বৌদ্ধরা এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়াবে না।

বৌদ্ধদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৫ই অক্টোবর।

বাংলাদেশে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের প্রধান সমন্বয়ক অশোক বড়ুয়া বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি সমবেদনা, সহমর্মিতা জানাতে প্রবারণা পূর্ণিমার দিন কোন ধরণের জাঁকজমক পরিহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

তিনি বলছেন, "প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়ানোকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধদের মধ্যে এক ধরনের আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু এবছর আমরা এই আনন্দ থেকে বিরত থাকতে চাই কারণ লক্ষ লক্ষ নিঃস্ব মানুষ বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমার থেকে নির্বাসিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। মিয়ানমারে মানুষের উপর যে অমানবিক নির্যাতন চলছে এই কান্নার মধ্যে কিভাবে উৎসব হয় বলুন? এই জন্য এ বছর আমাদের এই উৎসব আমরা কোন আড়ম্বরতা ছাড়াই পালন করবো। আমরা আমাদের আনন্দকে রোহিঙ্গাদের জন্য উৎসর্গ করলাম"

বৌদ্ধ ধর্মের নামে মিয়ানমারে যা হচ্ছে সেটি নিয়ে তারা এর আগেও প্রতিবাদ করেছেন।

এর আগে এই সংগঠনটি এক মানববন্ধন করে বলেছিল যে বৌদ্ধ ধর্ম এ ধরনের আচরণ সমর্থন করে না।

মি বড়ুয়া বলছেন তারা তাদের মনোভাব একটি স্বারক লিপির মাধ্যমে মিয়ানমার দূতাবাসে জানিয়েছেন।

তিনি বলছেন, "আমরা দূতাবাসের মাধ্যমে মিয়ানমারের সরকারকে অনুরোধ করেছি যে বুদ্ধ কখনো সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেননি। আমরা মনে করি তারা বুদ্ধের অনুসারী নয়।"

জেগে উঠুক মনুষ্যত্ব, জয় হোক মানবতার।

মুঈনুদ্দীন আহমাদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

অদ্য ১৮ সেপ্টেম্বর রোজ সোমবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী পরিচালিত গণহত্যা, মানবাধিকার পদদলিত করা, নারী ও শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর দশরথ হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এক মানব বন্ধনের আয়োজন করেন।

উক্ত মানব বন্ধনে বক্তারা বার্মার শাসক গোষ্ঠীর বিরূদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানায় এবং বিশ্ব বিবেককে জেগে ওঠার নিবেদন জানায়।

উক্ত মানব বন্ধনে ভূনবীর দশরথ হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রিন্সিপাল ঝলক চক্রবর্তী, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা গৌরী দাশ, উজ্জ্বল চৌধুরী, জাজন রায়, মিঠুন চক্রবর্তী অংশগ্রহন করেন।

জেগে উঠুক মনুষ্যত্ব, জয় হোক মানবতার !

Saturday, September 16, 2017

রক্ষক যখন ভক্ষক, সাধু কর্তৃক ধর্ষণ।

পরিবার হারিয়ে ৪ বছর আগে মন্দিরের সাধ্বী হয়েছেন এক নারী।

 

বিশ্বাসে ভর করে শুধুমাত্র সাধ্বী হওয়ার জন্যই ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতের উড়িশ্যা থেকে মথুরায় যান ওই নারী । মথুরায় রাধারানী মন্দিরের সাধ্বী হিসাবে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু সেই রাধারানী মন্দিরেই গণধর্ষণের শিকার হতে হল তাকে। আর গণধর্ষণ করল মন্দিরেরই দুই সাধু।

 

সোমবার রাতে উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার রাধারানী শ্রীজি মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

 

নির্যাতিত হওয়ার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। অভিযুক্ত কানহাইয়া যাদব নামে মন্দিরের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজেন্দ্র ঠাকুর নামে আর এক অভিযুক্তের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

 

তবে পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন ওই মহিলা।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ৪৫ বছরের ওই মহিলা উড়িশ্যার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তার স্বামী এবং ছেলে মারা যান। তার পরেই তিনি ওই মন্দিরের সাধ্বী হন। দিনে মন্দিরের কাজকর্ম সারার পর তিনি মন্দিরের বারান্দাতেই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত বাড়লে মন্দির চত্বর ফাঁকা হয়ে যায়। আর তখনই ঘুমের মধ্যে মুখ চেপে ধরে তাকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যায় দুই সাধু। সেখানেই তাকে গণঘর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

 

এর পর দিনই ওই নারী মথুরা থানায় যান। কিন্তু, অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়ার বদলে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী তার সঙ্গে অসহযোগিতা করে বলে অভিযোগ করেন। পরে সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ ওই নারীর অভিযোগ নেয়।

রোহিঙ্গা শিশুকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আল্লামা বাবুনগরী।

ভিটে মাটি ছেড়ে মাইন পোতা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে আসছে রোহিঙ্গা মুহাজিররা। কেউ নেই পাশে। সেনা নির্যাতনের মুখে কোলের শিশু সন্তানটিকেও ফেলে আসতে হয়েছে কারো। কেউ বা কবর দিয়ে এসেছেন শিশু-স্বামী কিংবা রক্তের স্বজন। কেউ আবার সে সুযোগটুকুও পায়নি। দরিদ্র দূর্বল যে নারী তার নিজের শরীরটাকেই টেনে আনতে কষ্ট হয় এই দূর্গম পথ ধরে সে ক্ষুধার্থ পেটে কাঁধে তুলে নিয়েছেন ২/৩ জন শিশুকে। তাকে হেঁটে বেড়াতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল, দিনের পর দিন। কেউ কেউ হেঁটেছে টানা ১৫ দিন। মিয়ানমার থেকে অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী জীবন বাঁচাতে পায়ে হেঁটে পালিয়ে আসছে।

“স্বাভাবিকভাবেই তারা বাকরুদ্ধ। তারা ওভাবে বলতেও পারেনা। বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে এসেছে মা, সেই মা কিভাবে তার মনোভাব প্রকাশ করবে। সত্যিকার অর্থে এটা একটা প্রচণ্ড মানবিক বিপর্যয় ।

সব মিলে টেকনাফে এক অদ্ভত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পর্যাপ্ত খাবার, পানি এমনকি থাকার ব্যবস্থাও নেই। নিবন্ধিত ক্যাম্পগুলো অনেক আগেই শরণার্থী দিয়ে ভরে গেছে। কেউ কেউ কোনো রকমরকম অস্থায়ী থাকার জায়গা করতে পারলেও বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শরণার্থীকেই ঘুমাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। তাদের তীব্র বৃষ্টিতেও মিলছে না মাথা গোজার ঠাঁই। তারা প্রচণ্ড দুর্বল, ক্ষুধার্থ এবং ক্লান্ত। সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে তাদের অনেক সাহায্যের প্রয়োজন।”

প্রচণ্ড দুর্বল, ক্ষুধার্থ এবং ক্লান্ত মুহাজিরদের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আজ টেকনাফে ছুটে গিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

টেকনাফে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুহাজিরদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে কালে এক শিশুকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আল্লামা বাবুনগরী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুহাজিরদের করুন দৃশ্য সহ্য করার নয়। লক্ষাধিক শিশু খোলা আকাশের নিচে। তাদের থাকার কোনো ঘর নেই, মুখে দেয়ার কোনো খাবার নেই, পরিধানের কাপড় নেই। এমন দৃশ্য দেখে ঠিক থাকা যায় না।

তিনি বার্মার জালিম সরকারের পতনের জন্য আল্লাহর দরবারে বদদোয়া করেন।

এ সময় আল্লামা বাবুনগরীর সাথে ছিলেন কেন্দ্রিয় নায়েবে আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা মির ইদ্রিস, মাওলানা সরওয়ার , হাটহাজারি মাদরাসার শিক্ষক ক্বারী জহিরুল হক মাওলানা তৈয়ব হালিম, হাফেজ সালামাতুল্লাহ, ইয়াসিন হাবিব প্রমুখ।

দিন বদলের শ্লোগান নিয়ে ইউনিক কম্পিউটার: "কারিগরী শিক্ষা নিন, বদলে দেবে আপনার দিন।"

মুঈনুদ্দীন আহমাদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

"কারিগরী শিক্ষা নিন,বদলে দেবে আপনার ‌দিন।"
এই শ্লোগান নিয়ে ভানুগাছ, কমলগঞ্জে যাত্রা শুরু করলো ইউনিক কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট। এটি শ্রীমঙ্গলের "ইজোন আইটি ইন্সটিটিউট" ও "ইউনাইটেড কম্পিউটার পয়েন্ট এন্ড ট্রেনিং"এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

উক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত  মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম ও সুবিশাল কম্পিউটার ল্যাবের পাশাপাশি ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারে ইউনিক কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এর শুভ শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। অদ্য ১৬ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার বিকাল ৫ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে উক্ত কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এর শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ উপজেলার মাননীয় সাংসদ সাবেক চীফ হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি ।
ইউনিক কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এর প্রেসিডেন্ট জনাব সুমন দেব বর্মার সভাপতিত্বে ও সুরেন্দ্র সিংহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী জনাব কাজী মেসবাউল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জনাব মোঃ জুয়েল আহমেদ, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মনিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন পরিষদের ইবুংহাল সিংহ শ্যামল, বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ, ইউনিক কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এর ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রবিত কুমার সিংহ প্রমুখ । এছাড়া আরো অনেক সমাজ সেবকগন ও নবীন-প্রবীন সংবাদকর্মী অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

Wednesday, August 30, 2017

উচ্ছেদ আতঙ্কে ১৪ পরিবার।

মুঈনুদ্দীন আহমাদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ৫০ পরিবারের ৪ শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষ। বাগান কতৃপক্ষ ভাড়াটিয়া বাহিনী কর্তৃক বসত ভিটে থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

 

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাহাড় ঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম ববানপুর। ১৯৫২ সালে ছরিম উল্লা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মৌখিক ভাবে প্রায় ১৫ একর জমি ক্রয় করে বসতি গড়ে তোলেন ২৪টি পরিবার। পরবর্তিকালে পরিবারগুলি সেই জমির খাজনা দিয়ে বংশানুক্রমে অদ্যাবধি তারা এই গ্রামে বসবাস করে আসছে। ১৯৬৫ সালে এই গ্রামের পাশের একটি চা বাগান গড়ে উঠলে ২০০৭ সালে হঠাৎ করে বাগান কর্তৃপক্ষ ভূমিটির মালিকানা দাবী করে ৫৫ বছরের পুরনো গ্রামটি দখলে নিতে গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ নোটিশ দেয়। দেশের বিশিষ্ট সমাজসেবক লায়লা কবিরের মালিকানাধিন দিনারপুর টি এস্টেট নামে এই বাগান কর্তৃপক্ষ দাবী করছে- বাগান সম্প্রসারণ লক্ষে তারা বিবাদমান জমিটিসহ কিছু ভূমি সরকার থেকে ৩৬ বছরের লীজ বন্দোবস্ত নিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে ছতির মিয়া গং আদালতে মামলা করে পরে হেরে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা আপিল করলে এ পর্যন্ত মামলাটি স্থিতিবস্থায় রয়ে যায়। এ অবস্থায় দিনারপুর টি এস্টেট কর্তৃপক্ষ মামলার রায়ের জোরে গ্রামটি উচ্ছেদে চেষ্টা করায় এই ৫০টি পরিবারের ৪ শতাধিক মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

গত মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এলাকার অবাল বৃদ্ধ নারী পুরুষ সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। চোখে মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে ৭৫ বছর বয়সী খোদেজা বিবি বলেন, ৬০ বছর আগে সে এই গ্রামে এসেছিলেন নববধূর পোষাকে। এরপর একে  একে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী মারা গেছেন এখানেই। নাতি নাতনি নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামটির চারিদিকে দরিদ্রতার ছাপ। ৫০টি পরিবারের সবগুলি ঘর মাটির তৈরী। বিদ্যুতের আলোহীন গ্রামে কোন কৃষি জমি নেই। উঠানে সব্জি, বাঁশ চাষাবাদ ও দিনমজুরী গ্রামবাসীদের আয়ের উৎস। ৬৫ বছর বয়সী গ্রামের আব্রু মিয়া বলেন, চা বাগান মালিকদের টাকা আছে। আমরা দরিদ্র মানুষ। এ ভিটে নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। ওরা আমাদের  গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করলে কোথায় যাব, আমাদের তো যাবার কোন জায়গা নেই। মছদ্দর আলী বলেন, ওরা জোর করে উচ্ছেদ করতে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। 

 

স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়নের ইউ পি সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, একদিকে উচ্ছেদ অন্যদিকে সন্ত্রাসী হামলার আশংকায় গ্রামের দরিদ্র মানুষরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দিনারপুর চা বাগানের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জোর করে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ করার অভিযোগ সত্য নয়। বিবাদমান ভূমির মালিকানা প্রশ্নে কোর্ট বাগানের পক্ষে যে রায় দিয়েছে সেই রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কোর্ট আবার যদি গ্রামবাসীদের পক্ষে রায় দেয় তবে তারা থাকবে। সন্ত্রাসী ভাড়াটে দিয়ে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পর সন্ত্রাসী দিয়ে ভূমি দখল নেয়ার প্রয়োজন পড়েনা।

Saturday, August 26, 2017

ট্যানারি মালিকদের সংবাদ সম্মেলন

 শাওনআহমেদ-(হেড অফ নিউজ )।

সাভারের হেমায়েতপুর বাজার থেকে চামড়া শিল্পনগরী পর্যন্ত রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। শিল্পনগরীর ভেতরের সড়কের অবস্থাও শোচনীয়। ফলে কোরবানি ঈদের সময় কাঁচা চামড়াবাহী ট্রাক পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভাঙা সড়কে একটি ট্রাক আটকে গেলে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হবে। এতে ট্রাকভর্তি চামড়া পচন ধরতে পারে, যা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) নেতারা এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর ধানমন্ডিতে আজ শনিবার সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএফএলএলএফইএর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কাঁচা চামড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর হাজারীবাগে নিয়ে আসেন। তবে এবার হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে। ভাঙা রাস্তাঘাটের জন্য হেমায়েতপুরে চামড়া নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় এবার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রচণ্ড অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ট্যানারি মালিকেরা চামড়া সংরক্ষণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তারপরও সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগ না নিলে ট্যানারি মালিকদের চেষ্টা সফল হবে না। সে ক্ষেত্রে চামড়া নষ্ট হওয়ার দায়দায়িত্ব ট্যানারি মালিকেরা নেবে না।’

চামড়া ছাড়ানোর ছয় ঘণ্টার মধ্যে পরিমাণমতো লবণ না দিলে চামড়ার পচন রোধ করা যাবে না। এমন তথ্য দিয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাঝারি চামড়ার জন্য ৬ থেকে ৮ কেজি এবং বড় চামড়ার জন্য ১০ থেকে ১২ কেজি লবণ দিতে হবে। চামড়ার গুণমান ভালো থাকলেই দাম ভালো পাওয়া যাবে।