Sunday, October 15, 2017

পাওনা টাকার বিরোধ নিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসা রটনা।

মুঈনুদ্দীন আহমাদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

পাওনা টাকার বিরোধ নিয়ে এক সংবাদকর্মী ও তার পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট করেছে শামীম বুলবুল ওরফে পাভেল নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার পরে ওই সংবাদকর্মী ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এ ব্যাপারে সংবাদকর্মী সোলেমান আহমেদ মানিক শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিরামপুরের আব্দুল গফুরের ছেলে সোলেমান আহমেদ মানিকের সঙ্গে রাজধানীর বনশ্রীর-সি ব্লকের রোড-৭ এর ২ নম্বর বাড়ির মৃত শওকত সিকদারের ছেলে শামীম বুলবুল ওরফে পাভেলের সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার দিকে পাভেল তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে রাইনবো-রাইনবো আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তার ভিজিটিং কার্ড সৃজন করে মেয়ের দালাল উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাকে অন্য এক মেয়ের সঙ্গে ফটোশপের মাধ্যমে মানিকের ছবি যুক্ত করা হয় এবং আপত্তিকর শব্দসহ ব্যবহার করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্ট্যাটাস দেয়া হয়। এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোলেমানের স্ত্রী ও বাচ্চার ছবি এডিট করে অন্য মেয়ের আপত্তিকর ছবি সংযোগ করে স্ট্যাটাস দেন। আবার বলা হয়, স্বামীর পরকীয়া দেখে ফেলায় স্ত্রীকে মারধর করলো আহতের স্বামী। এবং গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফেনসিডিল ব্যবসায়ীসহ আপত্তিকর দালাল উল্লেখ করে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাধারণ ডায়রি করা করা হয়েছে। এ বিষযে শামীম বুলবুল পাভেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার সেল ফোনে বার বার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে থানায় জিডি করার পর বিভিন্ন ফেইক আইডি থেকে শামীম বুলবুল ওরফে পাভেল বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

Wednesday, October 11, 2017

প্রস্তুতি ছাড়াই সাত কলেজের অধিভুক্তি নিয়ে বিপাকে ঢাবি

সেশনজট মুক্ত করে শিক্ষাকার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয় রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে। তবে অধিভুক্তির পর থেকেই কলেজগুলোকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া অধিভুক্তির কারণেই তা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে ঠিক সময়ে পরীক্ষা নেয়া, ফল তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক প্রমোশন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল, প্রযুক্তি সুবিধা, সময়ের অভাব এবং তথ্য-উপাত্ত না পেয়ে সাত কলেজ নিয়ে এখন চরম বিপাকে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। সে জন্য যথাসময়ে ফল ঘোষণা করা যাচ্ছে না। ফল না পাওয়ায় ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে একরকম স্থবিরতা বিরাজ করায় ভোগান্তিতে রয়েছেন কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা। ফলে সেশনজট মুক্ত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। পাশাপাশি ফল হাতে না পাওয়ায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরিতে আবেদন করতে না পারায় উদ্বেগে শিক্ষার্থীরা।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাবির অধিভুক্ত করা হয়। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অধিভুক্ত কলেজগুলো হলোÑ ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, এসব কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বর্তমানে এক লাখ ৬৭ হাজার ২৩৬ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এর আগে ঢাবির অধিভুক্ত কলেজ ছিল ১০৪টি। নতুন সাতটি যোগ হওয়ায় এ সংখ্যা এখন ১১১টি। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ১০৪টি কলেজ ও ইনস্টিটিউটের শিার্থী সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৬৯৮ জন, শিক সাত হাজার ৫৯১ জন। ফলে নিজস্ব ৩১ হাজার ৯৫৫ জন শিার্থীর বাইরে আরো দুই লাখ আট হাজার শিার্থীর দায়িত্ব নিতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে নিজস্ব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরীক্ষা নেয়া ও ফল তৈরিতে বিলম্বের কারণে বেশ কয়েকটি বিভাগে রয়েছে সেশনজট। এর মধ্যে অধিভুক্ত কলেজের এ বিশাল শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিতে মোটেও প্রস্তুত ছিল না ঢাবি। নিজ শিক্ষার্থীদের বাইরে সাত কলেজের শিক্ষার্থীর যথাসময়ে পরীক্ষা নেয়া, ফল তৈরি করা, নতুন বর্ষে ভর্তি হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নিজেদের আরো প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যক্তিরা। অধিভুক্তির সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা এসব শিক্ষার্থীর তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করাও সাত কলেজ সঙ্কটের জন্য দায়ী বলে মনে করেন তারা।

এ দিকে অধিভুক্তির সময় এসব কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের লিখিত পরীা নেয়া হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে। কিন্তু মৌখিক পরীা শেষ হওয়ার আগেই সেগুলোকে ঢাবির অধিভুক্ত হয়। পরীক্ষার মাঝপথে অধিভুক্তিকে সমালোচনার চোখে দেখেছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ায় ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে ঢাবি প্রশাসন। মূলত এসব কারণেই সাত কলেজ নিয়ে বিপাকে ঢাবি। যদিও বর্তমানে প্রযুক্তিগত অব্যবস্থাকে বড় করে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, ফল প্রকাশে বিলম্ব করেন তারা। এরই পরিপেক্ষিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চোখ হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর। পুলিশি হামলার শিকার হন অনেক শিক্ষার্থী। মামলা করা হয় অজ্ঞাত এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর নামে।

এ ছাড়া গত ৫ অক্টোবর শাহবাগে সংবাদ সম্মেলন করে পাঁচ দফা দাবি জানান সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে ৮ অক্টোবর রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। সবশেষে গত ৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করেন কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা। এ সময় ভিসির দেয়া নভেম্বরের মধ্যেই ফল ঘোষণার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেয়া ৩০ নভেম্বর সময়সীমার মধ্যে ফল ঘোষণা না হলে আবারো আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সাত কলেজ নিয়ে এত সমস্যার কারণ হিসেবে নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবকেই দায়ী করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর ফলেই কম সময়ে এত বিশাল কাজের আঞ্জাম দিতে গিয়ে বিপাকে ঢাবি। সেই সাথে ভোগান্তিতে রয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

অধিভুক্তিকেই ভোগান্তির কারণ উল্লেখ করে ইডেন মহিলা কলেজের চতুর্থ বর্ষের ফলপ্রার্থী শিক্ষার্থী কানিজ আক্তার লিপি বলেন, মাঝপথে অধিভুক্তকরণের পরেও তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতা ততটা দেখা যায়নি। এ সময় অধিভুক্ত না হলে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকলে আমরা এতদিনে অনার্স শেষ করে ফেলতাম। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চার মাস আগে রেজাল্ট পেলেও আমরা এখনো পাইনি। ফলে আমাদের নিয়ে পরিবারের চিন্তার অন্ত নেই।
একই কলেজ-বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়াংকা হাওলাদার বলেন, ফল না পাওয়ায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছি না আমরা। মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজেদের ঝামেলা না মিটিয়েই তার মধ্যে আমাদের ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এটা ঠিক নয়। আমরা চাই আমাদের অ্যাকাডেমিক কাজে গতিশীলতা আসুক।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রেজাউল কবির বলেন, পরীক্ষার ৯ মাস পরেও ফল প্রকাশ করা হয়নি। অন্য কলেজগুলোর শিার্থীরা চার মাস আগে রেজাল্ট পেয়ে মাস্টার্সে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শুরু করলেও আমরা এখনো রেজাল্ট পাইনি। চাকরির বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারছি না।
প্রস্তুতি ছাড়াই অধিভুক্তির বিষটিকে ভুল আখ্যা দিয়ে ঢাবির ইতিহাস বিভাগের সংখাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ কলেজগুলো অধিভুক্তকরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিল না। সেই সাথে দক্ষ জনবল, প্রক্রিয়াগত জটিলতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঐকান্তিকতার অভাব ছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাবির তৎকালীন ভিসির মধ্যে সম্পর্ক ছিল শীতল। এ কারণেই সঙ্কট। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান ভিসির সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সম্পর্ক ভালো। আশা করি এর সমাধান হয়ে যাবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কী করে তাদের সক্ষমতা অর্জন করবে সেটা জানা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বিচার করে সরকারি সিদ্ধান্তে এ কলেজগুলোকে অধিভুক্ত করা হয়েছে। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বন্দ্বের কারণেই সঙ্কট প্রকট হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
সাত কলেজের অধিভুক্তি নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তরিকতা সম্পর্কে জানতে ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান বলেন, সংখ্যায় কম মনে হলেও সাত কলেজের শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধিভুক্ত অন্য ১০৪ কলেজের শিক্ষার্থীর থেকেও অনেক বেশি। এ সংখ্যার তুলনায় আমাদের লোকবল ও প্রযুক্তির অনেক ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে এ কলেজগুলোর ফল প্রদানের জন্য আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা নিচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা যে সময় নিয়েছি আশা করি সে সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে পারব। পাশাপাশি আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

Wednesday, September 27, 2017

সরিষাবাড়ি পৌরসভার নিখোঁজ মেয়র শ্রীমঙ্গল থেকে উদ্ধার।

মুঈনুদ্দীন আহমাদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি পৌরসভার নিখোঁজ মেয়র রুকুনুজ্জামানকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়ন অফিসের সামনে থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ বুধবার দুপুর ১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে।

মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ারুল হক জানান, সরিষাবাড়ি পৌরসভার নিখোঁজ মেয়র রুকুনুজ্জামানকে কালিঘাট ইউনিয়ন অফিসের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা রুকুনুজ্জামান রাজধানীর উত্তরা থেকে সোমবার সকালে নিখোঁজ হন।

নিখোঁজের আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসের এক অংশে মেয়র রুকুনুজ্জামান লিখেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে আমার আহবান যে, আমাকে হত্যা করা হলেও তোমাদের সিক্ত ভালোবাসা যেন অটুট থাকে এবং আমার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তোমরা ধরে রাখবা।’

দিনভর কোনো খোঁজ না পেয়ে মেয়রের ভাই সাইফুল ইসলাম টুকন সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং ১৬১১) করেন।

Monday, September 18, 2017

মিয়ানমারের গনহত্যা, বৌদ্ধরা এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়াবে না।

বাংলাদেশে বৌদ্ধদের শীর্ষ সংগঠন সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ জানিয়েছে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিবাদে বৌদ্ধরা এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়াবে না।

বৌদ্ধদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৫ই অক্টোবর।

বাংলাদেশে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের প্রধান সমন্বয়ক অশোক বড়ুয়া বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি সমবেদনা, সহমর্মিতা জানাতে প্রবারণা পূর্ণিমার দিন কোন ধরণের জাঁকজমক পরিহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

তিনি বলছেন, "প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস ওড়ানোকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধদের মধ্যে এক ধরনের আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু এবছর আমরা এই আনন্দ থেকে বিরত থাকতে চাই কারণ লক্ষ লক্ষ নিঃস্ব মানুষ বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমার থেকে নির্বাসিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। মিয়ানমারে মানুষের উপর যে অমানবিক নির্যাতন চলছে এই কান্নার মধ্যে কিভাবে উৎসব হয় বলুন? এই জন্য এ বছর আমাদের এই উৎসব আমরা কোন আড়ম্বরতা ছাড়াই পালন করবো। আমরা আমাদের আনন্দকে রোহিঙ্গাদের জন্য উৎসর্গ করলাম"

বৌদ্ধ ধর্মের নামে মিয়ানমারে যা হচ্ছে সেটি নিয়ে তারা এর আগেও প্রতিবাদ করেছেন।

এর আগে এই সংগঠনটি এক মানববন্ধন করে বলেছিল যে বৌদ্ধ ধর্ম এ ধরনের আচরণ সমর্থন করে না।

মি বড়ুয়া বলছেন তারা তাদের মনোভাব একটি স্বারক লিপির মাধ্যমে মিয়ানমার দূতাবাসে জানিয়েছেন।

তিনি বলছেন, "আমরা দূতাবাসের মাধ্যমে মিয়ানমারের সরকারকে অনুরোধ করেছি যে বুদ্ধ কখনো সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেননি। আমরা মনে করি তারা বুদ্ধের অনুসারী নয়।"

জেগে উঠুক মনুষ্যত্ব, জয় হোক মানবতার।

মুঈনুদ্দীন আহমাদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

অদ্য ১৮ সেপ্টেম্বর রোজ সোমবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী পরিচালিত গণহত্যা, মানবাধিকার পদদলিত করা, নারী ও শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর দশরথ হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এক মানব বন্ধনের আয়োজন করেন।

উক্ত মানব বন্ধনে বক্তারা বার্মার শাসক গোষ্ঠীর বিরূদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানায় এবং বিশ্ব বিবেককে জেগে ওঠার নিবেদন জানায়।

উক্ত মানব বন্ধনে ভূনবীর দশরথ হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রিন্সিপাল ঝলক চক্রবর্তী, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা গৌরী দাশ, উজ্জ্বল চৌধুরী, জাজন রায়, মিঠুন চক্রবর্তী অংশগ্রহন করেন।

জেগে উঠুক মনুষ্যত্ব, জয় হোক মানবতার !

Saturday, September 16, 2017

রক্ষক যখন ভক্ষক, সাধু কর্তৃক ধর্ষণ।

পরিবার হারিয়ে ৪ বছর আগে মন্দিরের সাধ্বী হয়েছেন এক নারী।

 

বিশ্বাসে ভর করে শুধুমাত্র সাধ্বী হওয়ার জন্যই ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতের উড়িশ্যা থেকে মথুরায় যান ওই নারী । মথুরায় রাধারানী মন্দিরের সাধ্বী হিসাবে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু সেই রাধারানী মন্দিরেই গণধর্ষণের শিকার হতে হল তাকে। আর গণধর্ষণ করল মন্দিরেরই দুই সাধু।

 

সোমবার রাতে উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার রাধারানী শ্রীজি মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

 

নির্যাতিত হওয়ার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। অভিযুক্ত কানহাইয়া যাদব নামে মন্দিরের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজেন্দ্র ঠাকুর নামে আর এক অভিযুক্তের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

 

তবে পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন ওই মহিলা।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ৪৫ বছরের ওই মহিলা উড়িশ্যার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তার স্বামী এবং ছেলে মারা যান। তার পরেই তিনি ওই মন্দিরের সাধ্বী হন। দিনে মন্দিরের কাজকর্ম সারার পর তিনি মন্দিরের বারান্দাতেই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত বাড়লে মন্দির চত্বর ফাঁকা হয়ে যায়। আর তখনই ঘুমের মধ্যে মুখ চেপে ধরে তাকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যায় দুই সাধু। সেখানেই তাকে গণঘর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

 

এর পর দিনই ওই নারী মথুরা থানায় যান। কিন্তু, অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়ার বদলে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী তার সঙ্গে অসহযোগিতা করে বলে অভিযোগ করেন। পরে সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ ওই নারীর অভিযোগ নেয়।

রোহিঙ্গা শিশুকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আল্লামা বাবুনগরী।

ভিটে মাটি ছেড়ে মাইন পোতা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে আসছে রোহিঙ্গা মুহাজিররা। কেউ নেই পাশে। সেনা নির্যাতনের মুখে কোলের শিশু সন্তানটিকেও ফেলে আসতে হয়েছে কারো। কেউ বা কবর দিয়ে এসেছেন শিশু-স্বামী কিংবা রক্তের স্বজন। কেউ আবার সে সুযোগটুকুও পায়নি। দরিদ্র দূর্বল যে নারী তার নিজের শরীরটাকেই টেনে আনতে কষ্ট হয় এই দূর্গম পথ ধরে সে ক্ষুধার্থ পেটে কাঁধে তুলে নিয়েছেন ২/৩ জন শিশুকে। তাকে হেঁটে বেড়াতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল, দিনের পর দিন। কেউ কেউ হেঁটেছে টানা ১৫ দিন। মিয়ানমার থেকে অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী জীবন বাঁচাতে পায়ে হেঁটে পালিয়ে আসছে।

“স্বাভাবিকভাবেই তারা বাকরুদ্ধ। তারা ওভাবে বলতেও পারেনা। বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে এসেছে মা, সেই মা কিভাবে তার মনোভাব প্রকাশ করবে। সত্যিকার অর্থে এটা একটা প্রচণ্ড মানবিক বিপর্যয় ।

সব মিলে টেকনাফে এক অদ্ভত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পর্যাপ্ত খাবার, পানি এমনকি থাকার ব্যবস্থাও নেই। নিবন্ধিত ক্যাম্পগুলো অনেক আগেই শরণার্থী দিয়ে ভরে গেছে। কেউ কেউ কোনো রকমরকম অস্থায়ী থাকার জায়গা করতে পারলেও বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শরণার্থীকেই ঘুমাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। তাদের তীব্র বৃষ্টিতেও মিলছে না মাথা গোজার ঠাঁই। তারা প্রচণ্ড দুর্বল, ক্ষুধার্থ এবং ক্লান্ত। সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে তাদের অনেক সাহায্যের প্রয়োজন।”

প্রচণ্ড দুর্বল, ক্ষুধার্থ এবং ক্লান্ত মুহাজিরদের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আজ টেকনাফে ছুটে গিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

টেকনাফে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুহাজিরদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে কালে এক শিশুকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আল্লামা বাবুনগরী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুহাজিরদের করুন দৃশ্য সহ্য করার নয়। লক্ষাধিক শিশু খোলা আকাশের নিচে। তাদের থাকার কোনো ঘর নেই, মুখে দেয়ার কোনো খাবার নেই, পরিধানের কাপড় নেই। এমন দৃশ্য দেখে ঠিক থাকা যায় না।

তিনি বার্মার জালিম সরকারের পতনের জন্য আল্লাহর দরবারে বদদোয়া করেন।

এ সময় আল্লামা বাবুনগরীর সাথে ছিলেন কেন্দ্রিয় নায়েবে আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা মির ইদ্রিস, মাওলানা সরওয়ার , হাটহাজারি মাদরাসার শিক্ষক ক্বারী জহিরুল হক মাওলানা তৈয়ব হালিম, হাফেজ সালামাতুল্লাহ, ইয়াসিন হাবিব প্রমুখ।