Skip to main content

উচ্ছেদ আতঙ্কে ১৪ পরিবার।

মুঈনুদ্দীন আহমাদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ৫০ পরিবারের ৪ শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষ। বাগান কতৃপক্ষ ভাড়াটিয়া বাহিনী কর্তৃক বসত ভিটে থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

 

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাহাড় ঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম ববানপুর। ১৯৫২ সালে ছরিম উল্লা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মৌখিক ভাবে প্রায় ১৫ একর জমি ক্রয় করে বসতি গড়ে তোলেন ২৪টি পরিবার। পরবর্তিকালে পরিবারগুলি সেই জমির খাজনা দিয়ে বংশানুক্রমে অদ্যাবধি তারা এই গ্রামে বসবাস করে আসছে। ১৯৬৫ সালে এই গ্রামের পাশের একটি চা বাগান গড়ে উঠলে ২০০৭ সালে হঠাৎ করে বাগান কর্তৃপক্ষ ভূমিটির মালিকানা দাবী করে ৫৫ বছরের পুরনো গ্রামটি দখলে নিতে গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ নোটিশ দেয়। দেশের বিশিষ্ট সমাজসেবক লায়লা কবিরের মালিকানাধিন দিনারপুর টি এস্টেট নামে এই বাগান কর্তৃপক্ষ দাবী করছে- বাগান সম্প্রসারণ লক্ষে তারা বিবাদমান জমিটিসহ কিছু ভূমি সরকার থেকে ৩৬ বছরের লীজ বন্দোবস্ত নিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে ছতির মিয়া গং আদালতে মামলা করে পরে হেরে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা আপিল করলে এ পর্যন্ত মামলাটি স্থিতিবস্থায় রয়ে যায়। এ অবস্থায় দিনারপুর টি এস্টেট কর্তৃপক্ষ মামলার রায়ের জোরে গ্রামটি উচ্ছেদে চেষ্টা করায় এই ৫০টি পরিবারের ৪ শতাধিক মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

গত মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এলাকার অবাল বৃদ্ধ নারী পুরুষ সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। চোখে মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে ৭৫ বছর বয়সী খোদেজা বিবি বলেন, ৬০ বছর আগে সে এই গ্রামে এসেছিলেন নববধূর পোষাকে। এরপর একে  একে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী মারা গেছেন এখানেই। নাতি নাতনি নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামটির চারিদিকে দরিদ্রতার ছাপ। ৫০টি পরিবারের সবগুলি ঘর মাটির তৈরী। বিদ্যুতের আলোহীন গ্রামে কোন কৃষি জমি নেই। উঠানে সব্জি, বাঁশ চাষাবাদ ও দিনমজুরী গ্রামবাসীদের আয়ের উৎস। ৬৫ বছর বয়সী গ্রামের আব্রু মিয়া বলেন, চা বাগান মালিকদের টাকা আছে। আমরা দরিদ্র মানুষ। এ ভিটে নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। ওরা আমাদের  গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করলে কোথায় যাব, আমাদের তো যাবার কোন জায়গা নেই। মছদ্দর আলী বলেন, ওরা জোর করে উচ্ছেদ করতে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। 

 

স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়নের ইউ পি সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, একদিকে উচ্ছেদ অন্যদিকে সন্ত্রাসী হামলার আশংকায় গ্রামের দরিদ্র মানুষরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দিনারপুর চা বাগানের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জোর করে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ করার অভিযোগ সত্য নয়। বিবাদমান ভূমির মালিকানা প্রশ্নে কোর্ট বাগানের পক্ষে যে রায় দিয়েছে সেই রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কোর্ট আবার যদি গ্রামবাসীদের পক্ষে রায় দেয় তবে তারা থাকবে। সন্ত্রাসী ভাড়াটে দিয়ে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পর সন্ত্রাসী দিয়ে ভূমি দখল নেয়ার প্রয়োজন পড়েনা।

Comments

Popular posts from this blog

এইচএসসিতে আলাদা পাসের বিধান অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাই কোর্ট

বাংলাদেশের উচ্চ-মাধ্যমিক/ এইচএসসি পরীক্ষায় তিনটি বিষয়ে নৈর্ব্যত্তিক, সৃজনশীল ও ব্যবহারিক অংশে আলাদা আলাদাভাবে পাসের বিধান অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাই কোর্ট। তাসনীম রাইসা নামের এক শিক্ষার্থীর গত বছর করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এবছর ২৯ জানুয়ারি ঘোষিত এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে এইচএসসির পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের নৈর্ব্যত্তিক, সৃজনশীল ও ব্যবহারিকে আলাদাভাবে পাসের বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা সিটি কলেজ থেকে ২০১৩’র এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ঐ শিক্ষার্থী বাংলা, জীব বিজ্ঞান, গণিতে এ প্লাস এবং ইংরেজি ও পদার্থ বিজ্ঞানে এ গ্রেড এবং রসায়নে এফ গ্রেড পান। ঐ বছর ৩ অগাস্ট তার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।
বিডিনিউজ২৪ ডটকমের এক
প্রতিবেদনে জানা যায়, রায়ে বলা হয়, “এখানে দেখা যায়, রিটকারী রসায়নের অন্য পার্টগুলোতে উত্তীর্ণ হলেও ব্যবহারিকে প্রয়োজনীয় নম্বর অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের মত হচ্ছে, নৈর্ব্যত্তিক, সৃজনশীল ও ব্যবহারিকে পাস করার বিধানকে আইন সমর্থন করে না। এ কারণে তাকে পাস বলে বিবেচনা করা উচিত।”
‘”পুনঃগণনা”র পরিবর্তে “পুনঃনিরীক্ষা” করা যাবে না বলে যে ব…

Hsc Exam Routine 2017 -All board Bangladesh

I know HSC Exam Routine is how much important at all
students. Becuase I passed the exam. Once the HSC Exam
Routine 2017 and Alim Routine 2017 will be published, then
you can collect the routine from here.
If You get gelp from here..please comment Some Thing!

পরীক্ষার সময় নিয়ে বিভ্রাট, মানববন্ধনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান (সৃজনশীল) প্রথম পত্র পরীক্ষায় নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই কিশোরগঞ্জে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র কর্তব্যরত পরিদর্শকেরা টেনে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সোমবার অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান (সৃজনশীল) প্রথম পত্রের ৫০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল দুই ঘন্টা ৩৫ মিনিট। কিন্তু প্রশ্নপত্রে দুই ঘন্টা ২০ মিনিট লেখা থাকার অজুহাতে ১৫ মিনিট আগেই তাদের উত্তরপত্র টেনে নেয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের আগে উত্তরপত্র নিয়ে যাওয়ায় উত্তর জানা থাকা সত্ত্বেও কোন পরীক্ষার্থীই নির্ধারিত পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারেনি। উত্তর লিখতে না পেরে বাড়ি ফিরে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। যে পরীক্ষার্থীরা এ প্লাস কিংবা ভাল ফলাফলের আশা করেছিল, তারাও এখন ফল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে শহরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজের সামনে মানববন্ধন করে এর প্রতিকার দাবি করেছে পরীক্ষার্থীরা। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচীতে জেলা শহরের বিভিন্ন কলেজের কয়েকশ’ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় পরীক্ষার্থীরা ‘১৫ মিনিটের বলির শিকার আমরা কেন?’, ‘কর্তৃপক্ষের…