Saturday, September 16, 2017

রোহিঙ্গা শিশুকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আল্লামা বাবুনগরী।

ভিটে মাটি ছেড়ে মাইন পোতা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে আসছে রোহিঙ্গা মুহাজিররা। কেউ নেই পাশে। সেনা নির্যাতনের মুখে কোলের শিশু সন্তানটিকেও ফেলে আসতে হয়েছে কারো। কেউ বা কবর দিয়ে এসেছেন শিশু-স্বামী কিংবা রক্তের স্বজন। কেউ আবার সে সুযোগটুকুও পায়নি। দরিদ্র দূর্বল যে নারী তার নিজের শরীরটাকেই টেনে আনতে কষ্ট হয় এই দূর্গম পথ ধরে সে ক্ষুধার্থ পেটে কাঁধে তুলে নিয়েছেন ২/৩ জন শিশুকে। তাকে হেঁটে বেড়াতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল, দিনের পর দিন। কেউ কেউ হেঁটেছে টানা ১৫ দিন। মিয়ানমার থেকে অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী জীবন বাঁচাতে পায়ে হেঁটে পালিয়ে আসছে।

“স্বাভাবিকভাবেই তারা বাকরুদ্ধ। তারা ওভাবে বলতেও পারেনা। বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে এসেছে মা, সেই মা কিভাবে তার মনোভাব প্রকাশ করবে। সত্যিকার অর্থে এটা একটা প্রচণ্ড মানবিক বিপর্যয় ।

সব মিলে টেকনাফে এক অদ্ভত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে পর্যাপ্ত খাবার, পানি এমনকি থাকার ব্যবস্থাও নেই। নিবন্ধিত ক্যাম্পগুলো অনেক আগেই শরণার্থী দিয়ে ভরে গেছে। কেউ কেউ কোনো রকমরকম অস্থায়ী থাকার জায়গা করতে পারলেও বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শরণার্থীকেই ঘুমাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। তাদের তীব্র বৃষ্টিতেও মিলছে না মাথা গোজার ঠাঁই। তারা প্রচণ্ড দুর্বল, ক্ষুধার্থ এবং ক্লান্ত। সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে তাদের অনেক সাহায্যের প্রয়োজন।”

প্রচণ্ড দুর্বল, ক্ষুধার্থ এবং ক্লান্ত মুহাজিরদের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আজ টেকনাফে ছুটে গিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

টেকনাফে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুহাজিরদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে কালে এক শিশুকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আল্লামা বাবুনগরী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুহাজিরদের করুন দৃশ্য সহ্য করার নয়। লক্ষাধিক শিশু খোলা আকাশের নিচে। তাদের থাকার কোনো ঘর নেই, মুখে দেয়ার কোনো খাবার নেই, পরিধানের কাপড় নেই। এমন দৃশ্য দেখে ঠিক থাকা যায় না।

তিনি বার্মার জালিম সরকারের পতনের জন্য আল্লাহর দরবারে বদদোয়া করেন।

এ সময় আল্লামা বাবুনগরীর সাথে ছিলেন কেন্দ্রিয় নায়েবে আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা মির ইদ্রিস, মাওলানা সরওয়ার , হাটহাজারি মাদরাসার শিক্ষক ক্বারী জহিরুল হক মাওলানা তৈয়ব হালিম, হাফেজ সালামাতুল্লাহ, ইয়াসিন হাবিব প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment